উন্নয়নের দায় শুধু সরকারের নয়, নাগরিকেরও

বাংলাদেশে উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা শুরু হলেই আমরা প্রায় স্বভাবগতভাবে সরকারের দিকে তাকাই। রাস্তা ভাঙা—সরকারের ব্যর্থতা; শহর নোংরা—সিটি করপোরেশনের ব্যর্থতা; যানজট—ট্রাফিক পুলিশের ব্যর্থতা; হাসপাতাল অগোছালো—স্বাস্থ্য প্রশাসনের ব্যর্থতা। এসব অভিযোগের অধিকাংশই অমূলক নয়। রাষ্ট্র পরিচালনা, আইন প্রয়োগ, জনসেবা, অবকাঠামো নির্মাণ এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহারের প্রধান দায়িত্ব নিঃসন্দেহে সরকারের। সেই দায়িত্বে ব্যর্থ হলে সরকারের সমালোচনা করা এবং জবাবদিহি দাবি করা নাগরিকের অধিকার।

কিন্তু একটি দেশ কি শুধু সরকারের উদ্যোগে উন্নত হতে পারে? একটি শহর কি শুধু মেয়রের নির্দেশে পরিচ্ছন্ন থাকে? একটি সমাজ কি কেবল পুলিশের উপস্থিতিতে শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়? সরকার সড়ক নির্মাণ করতে পারে, কিন্তু সেই সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে নাগরিকের সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকার হাসপাতাল তৈরি করতে পারে, কিন্তু হাসপাতালের পরিবেশ ও সেবাব্যবস্থা সুশৃঙ্খল রাখতে চিকিৎসক, কর্মচারী, রোগী ও স্বজন—সবারই দায়িত্ব রয়েছে। সরকার বিদ্যালয় স্থাপন করতে পারে, কিন্তু শিক্ষা তখনই অর্থবহ হয়, যখন শিক্ষক নিষ্ঠার সঙ্গে পড়ান, শিক্ষার্থী মনোযোগ দিয়ে শেখে এবং অভিভাবক সততা ও মানবিকতার মূল্য শেখান।

অর্থাৎ উন্নয়ন শুধু রাষ্ট্রের প্রকল্প নয়; এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের যৌথ সামাজিক চুক্তি।

অবকাঠামো নির্মাণ আর সভ্যতা নির্মাণ এক নয়

আমরা সাধারণত সেতু, মহাসড়ক, মেট্রোরেল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বড় ভবন, রপ্তানি আয় কিংবা মাথাপিছু আয়ের প্রবৃদ্ধিকে উন্নয়নের প্রধান সূচক হিসেবে দেখি। এগুলো অবশ্যই প্রয়োজনীয়। কিন্তু উন্নয়ন যদি কেবল দৃশ্যমান অবকাঠামোর বিষয় হতো, তাহলে নাগরিকের চরিত্র, সামাজিক আস্থা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন পড়ত না।

একটি চকচকে শহরের রাস্তায় যদি যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা হয়, ফুটপাত দখল করা হয়, ট্রাফিক আইন অমান্য করা হয় এবং সামান্য সুযোগ পেলেই মানুষ অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করে, তাহলে সেই শহরকে সত্যিকার অর্থে উন্নত বলা যায় না। বহুতল ভবন, উড়ালসড়ক ও বিপণিবিতান একটি শহরকে বড় করতে পারে; কিন্তু নাগরিক বোধ ছাড়া সেগুলো শহরটিকে সভ্য করতে পারে না।

উন্নয়ন শেষ পর্যন্ত মানুষের দৈনন্দিন আচরণে প্রতিফলিত হয়—সে লাইনে দাঁড়ায় কি না, প্রকাশ্য স্থানে ময়লা ফেলে কি না, দুর্বল মানুষের অধিকারকে সম্মান করে কি না, কর ও সরকারি ফি যথাযথভাবে দেয় কি না এবং নিজের স্বার্থের বাইরে সমাজের কথাও ভাবে কি না। একটি দেশের প্রকৃত অগ্রগতি বোঝা যায় নাগরিকেরা অপরিচিত মানুষের প্রতিও কতটা দায়িত্বশীল আচরণ করেন, তা দেখে।

আইন আছে, কিন্তু আইন মানার সংস্কৃতি দুর্বল

বাংলাদেশে প্রায়ই বলা হয়, দেশে আইন নেই। বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই আইন আছে; দুর্বলতা রয়েছে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং স্বেচ্ছায় আইন মানার সংস্কৃতিতে।

ট্রাফিক সিগন্যাল লাল, কিন্তু রাস্তা ফাঁকা—তাই আমরা পার হয়ে যাই। পদচারী–সেতু আছে, কিন্তু কয়েক মিনিট বাঁচাতে নিচ দিয়েই রাস্তা পার হই। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা থাকলেও হাতের প্যাকেটটি রাস্তায় ছুড়ে দিই। অফিসে দেরিতে এসে সময়ের আগেই চলে যাই। পরীক্ষায় নকলকে অপরাধ না ভেবে সুযোগ মনে করি। পরিচিত কেউ থাকলে নিয়ম ভেঙে আগে সেবা নেওয়াকে বুদ্ধিমত্তা বলে গণ্য করি। আবার অন্য কেউ একই সুবিধা নিলে তাকে দুর্নীতিবাজ বলি।

এখানেই আমাদের নাগরিক মানসিকতার বড় অসংগতি। আমরা রাষ্ট্রের কাছে দক্ষতা, শৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা চাই; অথচ নিজেদের সুবিধার সময় নিয়ম ভাঙাকে স্বাভাবিক মনে করি।

আইন কেবল শাস্তির ভয় নয়; আইন সামাজিক আস্থার ভিত্তি। আমি নিয়ম মানব, কারণ অন্যরাও নিয়ম মানবে—এই পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপরই সভ্য সমাজ দাঁড়িয়ে থাকে। যখন মানুষ মনে করে, নিয়ম মানলে সে বঞ্চিত হবে আর নিয়ম ভাঙলে সুবিধা পাবে, তখন আইনের প্রতি আস্থা নষ্ট হয়। তাই আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব; আর আইনকে দৈনন্দিন আচরণের অংশে পরিণত করা নাগরিকের দায়িত্ব।

সব দায় নাগরিকের ওপর চাপানোও অন্যায়

তবে নাগরিক দায়িত্বের কথা বলতে গিয়ে সরকারের ব্যর্থতাকে আড়াল করা যাবে না। নাগরিককে নিয়ম মানতে বলার আগে রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে নিয়মটি যুক্তিসংগত, সবার জন্য সমান এবং বাস্তবে মানা সম্ভব।

যেখানে নিরাপদ ফুটপাত নেই, সেখানে মানুষকে শুধু ফুটপাত ব্যবহারের উপদেশ দিয়ে লাভ নেই। যেখানে পর্যাপ্ত গণপরিবহন নেই, সেখানে শুধু যানজটের জন্য যাত্রীদের দোষ দেওয়া যথার্থ নয়। যেখানে ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান বা নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা নেই, সেখানে পরিচ্ছন্নতার বক্তৃতা যথেষ্ট নয়। একইভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি নিয়ম ভেঙে পার পেয়ে গেলে সাধারণ মানুষের কাছে আইন মানার আহ্বান বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়।

রাষ্ট্র ও নাগরিকের দায়িত্ব সমান ধরনের নয়। সরকারের হাতে আইন, অর্থ, প্রশাসন ও বলপ্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে; সাধারণ নাগরিকের হাতে সেই ক্ষমতা নেই। সে কারণে সরকারের দায়িত্ব বৃহত্তর এবং তার জবাবদিহিও বেশি। কিন্তু সরকারের দায়িত্ব বেশি হওয়ার অর্থ এই নয় যে নাগরিক সম্পূর্ণ দায়িত্বমুক্ত। সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনা, দুর্নীতির প্রতিবাদ করা, নির্বাচনে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জনসম্পদের অপচয় রোধ করাও নাগরিক দায়িত্বের অংশ।

সচেতন নাগরিকত্ব মানে সরকারের সব সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া নয়; বরং প্রয়োজন হলে প্রশ্ন করা, তথ্য চাওয়া, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং শান্তিপূর্ণভাবে পরিবর্তনের দাবি তোলা। অন্ধ আনুগত্য যেমন নাগরিকত্ব নয়, তেমনি সব ব্যর্থতার দায় শুধু সরকারের ওপর চাপিয়ে নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়াও দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব নয়।

সরকারি সম্পদ মানে জনগণের সম্পদ

বাংলাদেশে একটি ক্ষতিকর ধারণা প্রচলিত—সরকারি সম্পদ যেন কারও ব্যক্তিগত সম্পদ নয়, তাই সেটি নষ্ট হলে কারও ক্ষতি নেই। অথচ সরকারি বাস, রেল, সড়ক, বিদ্যালয়, হাসপাতাল, পার্ক, সড়কবাতি কিংবা সরকারি দপ্তরের প্রতিটি জিনিস জনগণের করের অর্থে নির্মিত। এগুলো নষ্ট করা মানে নিজেদের সম্পদই নষ্ট করা।

সরকার অবকাঠামো তৈরি করবে, কিন্তু নাগরিককে তা রক্ষা করতে হবে। সরকার গাছ লাগাবে, নাগরিককে সেই গাছ বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সরকার খাল খনন করবে, নাগরিককে সেখানে বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। সরকার বিদ্যালয় নির্মাণ করবে, স্থানীয় জনগণকে বিদ্যালয়ের জমি ও সম্পদ দখলের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। সরকার হাসপাতাল দেবে, কিন্তু ওষুধ চুরি, দালালি কিংবা অনিয়ম দেখলে নাগরিককেও প্রতিবাদ করতে হবে।

জনসম্পদ রক্ষার এই মানসিকতা পরিবার ও বিদ্যালয় থেকেই গড়ে তুলতে হবে। শিশুকে শেখাতে হবে—নিজের ঘর নোংরা না করার মতোই রাস্তা, বিদ্যালয় ও পার্ক নোংরা না করাও তার দায়িত্ব।

নাগরিক দায়িত্বের শুরু স্থানীয় পর্যায় থেকে

জাতীয় উন্নয়ন নিয়ে বড় বড় আলোচনা হয়, কিন্তু নাগরিক দায়িত্বের সবচেয়ে কার্যকর ক্ষেত্র হলো নিজের পাড়া, গ্রাম, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও উপজেলা। এলাকার একটি রাস্তা ভাঙা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো, ড্রেন বন্ধ হলে স্থানীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া, দরিদ্র শিশুর পড়াশোনায় সহায়তা করা, মাদক ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা—এসবও উন্নয়ন।

কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতার অপেক্ষায় না থেকে নাগরিকেরা ছোট ছোট স্থানীয় উদ্যোগ নিতে পারেন। কয়েকজন মিলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ, নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে প্রচার, স্বাস্থ্যসচেতনতা সভা কিংবা স্থানীয় সমস্যা নিয়ে গণশুনানির আয়োজন করতে পারেন। এসব উদ্যোগ সরকারের বিকল্প নয়; বরং সরকারি প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করার সামাজিক শক্তি।

তবে এমন উদ্যোগ যেন শুধু ছবি তোলা বা এক দিনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থাকে। প্রকৃত নাগরিক উদ্যোগ নিয়মিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে হওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষা ও পরিবারে নাগরিকত্বের চর্চা

নাগরিক দায়িত্ববোধ কোনো বক্তৃতা শুনে এক দিনে তৈরি হয় না। এটি পরিবার, বিদ্যালয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সামাজিক সংগঠনের দীর্ঘমেয়াদি চর্চার মাধ্যমে গড়ে ওঠে।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় পরীক্ষার ফল ও সনদের ওপর যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, সততা, সহমর্মিতা, পরিবেশ রক্ষা, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং জনসম্পদ রক্ষার ওপর ততটা দেওয়া হয় না। নাগরিক শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের একটি অধ্যায় হলে চলবে না; বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন পরিচালনায় তার চর্চা থাকতে হবে। শিক্ষার্থীকে পরিচ্ছন্নতা, স্বেচ্ছাসেবা, দলগত কাজ, বিতর্ক, স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং শান্তিপূর্ণভাবে দাবি উত্থাপনের অভিজ্ঞতা দিতে হবে।

একইভাবে পরিবারের বড়রা যদি শিশুর সামনে ট্রাফিক আইন ভাঙেন, ঘুষ দিয়ে কাজ করান বা অন্যের অধিকারকে তুচ্ছ করেন, তাহলে বইয়ের নৈতিক শিক্ষা কার্যকর হবে না। শিশুরা উপদেশের চেয়ে আচরণ থেকে বেশি শেখে।

বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও নাগরিক চরিত্র

বাংলাদেশের সামনে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের রয়েছে বিপুল তরুণ জনসংখ্যা, পরিশ্রমী কৃষক, অগ্রসরমান নারীসমাজ, সৃজনশীল উদ্যোক্তা, প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা ও অর্থনৈতিক অবদান, প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এবং শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। কিন্তু এসব সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিতে হলে দক্ষ জনশক্তির পাশাপাশি দায়িত্বশীল নাগরিকও তৈরি করতে হবে।

শুধু আয় বাড়লে কিন্তু আচরণ না বদলালে উন্নয়ন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। শুধু শহর বড় হলে কিন্তু নাগরিক বোধ না বাড়লে শহর পরিণত হবে কংক্রিটের বিশৃঙ্খলায়। শুধু সেতু নির্মিত হলে কিন্তু মানুষের মধ্যে আস্থা, সহমর্মিতা ও সহযোগিতা তৈরি না হলে সেই উন্নয়ন বাহ্যিকই থেকে যাবে।

আমাদের বুঝতে হবে, অধিকার ও দায়িত্ব পরস্পরবিচ্ছিন্ন নয়। যে নাগরিক ভোটাধিকার চান, তাঁর দায়িত্ব তথ্য জেনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা। যিনি সরকারি সেবা চান, তাঁর দায়িত্ব ঘুষের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা এবং অনিয়মের প্রতিবাদ করা। যিনি পরিচ্ছন্ন শহর চান, তাঁর দায়িত্ব রাস্তায় ময়লা না ফেলা। যিনি ন্যায়বিচার চান, তাঁর দায়িত্ব নিজের পরিবার বা দলের অন্যায়কেও অন্যায় বলা।

উন্নয়ন একটি সম্মিলিত যাত্রা

বাংলাদেশকে উন্নত, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে সরকার ও নাগরিক—উভয়কেই বদলাতে হবে। সরকারকে হতে হবে স্বচ্ছ, দক্ষ, ন্যায়পরায়ণ ও জবাবদিহিমূলক। নাগরিককে হতে হবে সচেতন, সুশৃঙ্খল, নৈতিক এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার।

সরকার আইন করবে, নাগরিক তা মানবে; কিন্তু আইন অন্যায্য হলে নাগরিক শান্তিপূর্ণভাবে পরিবর্তনের দাবি জানাবে। সরকার সেবা দেবে, নাগরিক শৃঙ্খলার সঙ্গে সেবা নেবে; আবার সেবায় অনিয়ম হলে জবাবদিহি চাইবে। সরকার অবকাঠামো নির্মাণ করবে, নাগরিক তা রক্ষা করবে। সরকার পরিকল্পনা করবে, নাগরিক অংশগ্রহণ করবে এবং পরিকল্পনার সুফল সবার কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করবে।

রাষ্ট্রকে শুধু সরকারের প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখলে নাগরিক নিজেকে দর্শক মনে করে। অথচ রাষ্ট্র আমাদের সবার। এ দেশের সাফল্যে যেমন আমাদের অংশ রয়েছে, তেমনি এর ব্যর্থতা সংশোধনের দায়িত্বও আমাদের।

একটি উন্নত বাংলাদেশ কেবল সংসদ, সচিবালয় কিংবা সরকারি দপ্তরে নির্মিত হবে না। সেটি নির্মিত হবে আমাদের ঘরে, বিদ্যালয়ে, রাস্তায়, কর্মক্ষেত্রে, বাজারে এবং প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তে। উন্নয়ন তাই শুধু সরকারের দেওয়া কোনো সুবিধা নয়; এটি সরকার ও নাগরিকের সম্মিলিত সাধনা। সেই সত্য যত দ্রুত আমরা উপলব্ধি করব, তত দ্রুত আমাদের অবকাঠামোগত অগ্রগতি একটি সভ্য, মানবিক ও টেকসই সমাজে রূপ নেবে।